ইয়ামাহা এফজেড ১৬ (Yamaha FZ16) মোটরসাইকেল ফিচার রিভিউ

ইয়ামাহা এফজেড ১৬


ইয়ামাহা এফজেড ১৬ (Yamaha FZ16) মোটরসাইকেল ফিচার রিভিউ

বর্তমানে বাংলাদেশের মোটরসাইকেল মার্কেটে প্রথম সারীর মোটরসাইকেল ব্র্যান্ডের মধ্যে অন্যতম একটি নাম হচ্ছে এই ইয়ামাহা মোটরসাইকেল। আর এই ইয়ামাহা মোটরসাইকেল বাংলাদেশের ইয়াং জেনারেশনের কাছে জনপ্রিয় একটি মোটরসাইকেল ব্র্যান্ড আর এর পেছনে অন্যতম কারণ হচ্ছে ইয়ামাহা মোটরসাইকেলের স্টাইলিশ ডিজাইন ও লুক। ইয়ামাহা মোটরসাইকেল কোম্পানি কিছুদিন পর পর তাদের চমকপ্রদ কিছু মোটরসাইকেল নিয়ে বাজারে হাজির হয় এবং তারা ভিন্ন ভিন্ন সিরিজের মোটরসাইকেল উৎপাদন করে আসছে তার মধ্যে বর্তমানে তাদের এফজেড সিরিজের মোটরসাইকেল গুলো অন্যতম। আর আজকে আপনাদের মাঝে ইয়ামাহার এমনি একটি এফজেড সিরিজের মোটরসাইকেল উপস্থাপন করতে যাচ্ছি যা সত্যিই অসাধারণ আর সেই মোটরসাইকেলটি হচ্ছে ইয়ামাহা এফজেড ১৬ (Yamaha FZ16) আশা করি এই মোটরসাইকেলের সম্পর্কে বিস্তারিত জানার পর আপনি অবশ্যই এটির প্রতি আগ্রহী হবেন। তাহলে চলুন জেনে নেয়া যাক ইয়ামাহা এফজেড ১৬ সিরিজের মোটরসাইকেলটির বিস্তারিত ফিচার সমূহ।

ডিজাইনঃ

ইয়ামাহা এফজেড ১৬ এই মোটরসাইকেলটি মূলত স্পোর্টস ক্যাটাগরির বাইক আর তাই এই মোটরসাইকেলটি দেখতে বেশ বড় বিশেষ করে বাইকটির সামনের অংশ বেশ উঁচু এবং বড় করে ডিজাইন করা। আর এই উঁচু ডিজাইনের ফুয়েল ট্যাংক বাইকটিকে একটি স্টাইলিশ লুক এনে দিয়েছে। আর বর্তমান প্রেক্ষাপটে অধিকাংশ তরুণ বাইকার এই ধরণের উঁচু ডিজাইনের বাইক বেশ পছন্দ করে যার কারণে এই ইয়ামাহা এফজেড ১৬ মোটরসাইকেলটি এ সকল তরুণ বাইকারদের কথা চিন্তা করে তৈরি করা হয়েছে। শুধু যে বাইকটির সামনের অংশই বেশ উঁচু তাই নয় এর পেছনের অংশও উঁচু আকারে তৈরি করা হয়েছে। বাইকটিতে মোটরসাইকেল চালকের জন্য সিট একটি নিচু আকারে তৈরি করা হলেও বাইক চালকের পেছনে আরহনকারির সিটটি বেশ উঁচু এবং পেছনের সিট এবং পেছনের টায়ারের মধ্যে একটি দুরুত্ব রয়েছে যার কারনে বাইকের এই অংশটাও বেশ উঁচু ধরণের। এছাড়াও অন্যতম আকর্ষনিয় অংশ হচ্ছে এই বাইকের কালার, এই ইয়ামাহা এফজেড ১৬ মোটরসাইকেলটি ৩ টি ভিন্ন কালারে বাজারে এসেছে সেগুলো হচ্ছে  কালো, নীল এবং লাল কালার।

ইঞ্জিনঃ

ইয়ামাহা এফজেড ১৬ এটি একটি পাওয়ারফুল এবং উন্নত মানের ইঞ্জিন সমৃদ্ধ মোটরসাইকেল। আর এটি স্পোর্টস ক্যাটাগরিরি বাইক হওয়াই এর ইঞ্জিন আরো মজবুত করা হয়েছে যাতে করে বাইকটি চালানোর সময়  যে কোন পরিস্থিতিতে আপনাকে কোন সমস্যার সম্মুখীন হতে না হয়। এই ইয়ামাহা এফজেড ১৬ মোটরসাইকেলটির ১৫৩ সিসি ইঞ্জিন যে কোন বাইকারকে মুগ্ধ করবে কারণ ১৫৩ সিসি মানের ইঞ্জিন একটি বাইকের জন্য সত্যিই অসাধারণ। এছাড়াও বাইকটিতে রয়েছে এয়ার কোল্ড, ৪টি স্ট্রোক, এসও এইচ সি এবং ২ টি ভাল্ভ ধরণের ইঞ্জিন। এছাড়াও আপনি যাতে বাইকটি দ্রুত চালু করতে পারেন সে জন্য বাইকটি আপনাকে দিচ্ছে দুটি বাইক চালু করার মাধ্যম একটি ইলেক্ট্রিক এবং একটি কিক স্টার্টিং সিস্টেম যার মাধ্যমে আপনি অতি সহজেই বাইকটি চালু করতে পারবেন।

স্পিড এবং মাইলিয়েজঃ

একটি ভাল মানের মোটরসাইকেল সম্পর্কে জানার সময় সবসময় একজন বাইকারের নজর থাকে বাইকটির স্পিড কতো এবং এটি কতো মাইলিয়েজ যেতে সক্ষম তার দিকে। আর ইয়ামাহা এফজেড ১৬ মোটরসাইকেলটি আপনাকে একটি ভাল মানের স্পিড এবং মাইলিয়েজ দেবে। এই মোটরসাইকেলটি ঘন্টাই ১২৫ কিলোমিটার বেগে ছুটতে সক্ষম এবং এই অসাধারণ বাইকটি প্রতি লিটারে আপনাকে ৩৫ কিলোমিটার পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার সামর্থ রাখে।

ফুয়েল ট্যাংকঃ

আমরা অধিকাংশ স্পোর্টস বাইকের ফুয়েল ট্যাংকের দিকে লক্ষ করলে দেখতে পাই যে এগুলো বেশ উঁচু ধরণের হয়ে থাকে আর এই ইয়ামাহা এফজেড ১৬ বাইকটিও এর ব্যতিক্রম নয়। এই বাইকটির ফুয়েল ট্যাংকটি একটু উঁচু ধরণের এবং মোটামুটি বড় সাইজের। আর এই ফুয়েল ট্যাংকটি ১২ লিটার পর্যন্ত ফুয়েল গ্রহন করতে সক্ষম আর এই ফুয়েল ট্যাংকটি সম্পূর্ণ ভর্তি ফুয়েলে আপনি ৪২০ কিলোমিটার পর্যন্ত যেতে পারবেন।

ব্রেকঃ

ইয়ামাহা এফজেড ১৬ মোটরসাইকেলটি আপনার নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে দুটি বেশ মজবুত ব্রেকিং সিস্টেম তৈরি করেছে যা সত্যিই অত্যান্ত কার্যকর একজন বাইকারের জন্য তার বাইকটি দ্রুত কন্ট্রোল করতে। এই বাইকটিতে রয়েছে একটি ডিস্ক এবং একটি ড্রাম ব্রেক।

দামঃ

ইয়ামাহা এফজেড ১৬ মোটরসাইকেলটি বাংলাদেশের বাজার অনুসারে এর বর্তমান বাজার মূল্য মাত্র ২,১০,০০০ টাকা।

শেষ কথাঃ

সর্বশেষ ইয়ামাহা এফজেড ১৬ মোটরসাইকেলটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানার পর আমি একটি কথাই বলতে চাই যে এটি একটি উন্নত মানের ইঞ্জিন সমৃদ্ধ এবং উন্নত মানের ডিজাইন সমৃদ্ধ স্পোর্টস ক্যাটাগরির মোটরসাইকেল যেটির ডিজাইন থেকে শুরু করে সবকিছুই আপনাকে মুগ্ধ করতে সক্ষম। এছাড়া বিশেষ করে বর্তমান তরুণ প্রজন্ম এই মোটরসাইকেলটি অবশ্যই পছন্দ করবে এটা আমার বিশ্বাস।

Full Specification of Yamaha FZ16