হোম মোটরসাইকেল টিপস মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা থেকে বাঁচার উপায়

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা থেকে বাঁচার উপায়

0
0
মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা থেকে বাঁচার উপায়

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা থেকে বাঁচার উপায়

একটি দুর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না। আমাদের দেশে প্রতি অসংখ্যা মানুষ মোটরসাইকেল  দুর্ঘটনা নিহত হয় । আর এই দুর্ঘটনার অভিশাপে পরে হাজারো মানুষ প্রতিদিন পঙ্গুত্ব বরণ করছে। যদিও দুর্ঘটনা কারো জিবনে বলে-কয়ে আসেনা তবুও কতগুলো বিষয়ে সতর্ক হতে পারলে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা এরিয়ে চলা যেতে পারে।

আর আজ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা থেকে বাঁচার বা এরিয়ে চলার কিছু উপায় নিয়ে আলোচনা করব।

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেতে যেই বিষয়গুলোর প্রতি লক্ষ রাখতে হবে

১) বেপরোয়া মোটর সাইকেল চালনা পরিহার করাঃ বেশি স্পিড বা বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো রীতিমত বোকামি। এটা কোন বীবত্বের নয় বরং মূর্খে কাজ । মোটরসাইকেলের দুর্ঘটনা বেশির ভাগেই ঘটে বেপরোয়া ভাবে মোটর সাইকেল চালানোর কারণে।  অনেকে মনে করেন দ্রুত চালালে খুব তাড়াতাড়ি গন্তব্যে পৌঁছা যায়। আপাত দৃষ্টিতে এটা সত্য। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে একদম ভুল।। কারণ-ভদ্রভাবে চালিয়েও পাঁচ-সাত মিনিটে অনেক দূর যাওয়া যায়। ত্রিশ-চল্লিশ কিলো. পথ অতিক্রম করতে খুব বেশি সময়ের হেরফের হয় না। ভদ্রভাবে চালিয়ে যে সময় লাগবে, পাগলের মতো ছুটলে হয়ত তার চেয়ে ৫-৭ মিনিট কম লাগবে। এই সময়টুকু মাত্র! এটাকে দ্রুত পোঁছা বলা যায় না। মাত্র ১ সেকেন্ডের সামান্য ভুলের কারণে নেমে আসতে পারে অনাকাঙ্খিত দুর্ঘটনা। তাই সকল বাইকারদের উচিত বেপরোয়া মোটর সাইকেল চালনা পরিহার করা।

২) রাস্তায় চলার সময় চারপাশে চোখ রাখুনঃ আপনি বেপরোয়া ভাবে মোটরসাইকেল চালাচ্ছেননা, আপনি একজন সচেতন মানুষ কিন্তু অন্য গাড়ির ড্রাইভারতো সচেতন নাও হতে পারে যেকোন সময় হয়ত আপনার উপর গাড়ি উঠিয়ে দিতে পারে তাই রাস্তায় বাইক চালানোর সময় সামনে পিছনের গাড়ির গতিবিধি লক্ষ রাখা অনেক জরুরি।

৩) চালানোর আগে পরিক্ষা করে নিনঃ প্রতিবার বাইক চালানো শুরুর আগে পরিক্ষা করুন যে আপনার বাইকের সিগন্যাল, লাইট, ব্রেক, হর্ন, বেল্ট,  শ্যাফট  সবকিছু ঠিকমতো কাজ করছে। টায়ার পরীক্ষা করে দেখুন প্রেসার ঠিক আছে কিনা। ইনফ্লেটেড টায়ার আর পুরাতন ব্রেক মোটর সাইকেল দুর্ঘটনার প্রধান কারণ।

৪) বৃষ্টির মধ্যে গাড়ি চালনার বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবেঃ বৃষ্টির সময় রাস্তা পিচ্ছিল থাকায় ব্রেক কম কাজ করে। এই কারণে বাড়তি সতর্কতা হিসাবে ধীর গতিতে  গাড়ি চালাতে হবে, যাতে ব্রেক প্রয়োগ করে অতি সহজেই গাড়ি থামানো যায়। অর্থাৎ ব্রেক প্রয়োগ করে গাড়ি যাতে অতি সহজেই থামানো বা নিয়ন্ত্রণ করা যায়, সেইরূপ ধীর গতিতে বৃষ্টির মধ্যে গাড়ি চালাতে হবে।

৫) হেলমেট ও সঠিক পোশাক পরিধান করতে হবেঃ বাইক চালনার ক্ষেত্রে হেলমেট একটি গুরুত্বপুর্ন বিষয় । যেসব  চালক হেলমেট ব্যবহার করেন না তাদের দুর্ঘটনা ঘটলে  মাথায় খুব বেশী আঘাত পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে ৪০% এরও বেশী। আর এতে  ব্রেইন ইনজুরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে অনেক বেশি। তাই একটি হেলমেট আপনাকে অনেক বড় ইনজুরির হাত থেকে রক্ষা করতে পারে।

আর নিরাপদ পোশাক হিসেবে জিন্স, জ্যাকেট, হাতের গ্লাভস, কেইস জুতা পরিধান করলে নিজেকে অনেক সেফ করা যায়।

দুর্ঘটনা এমন একটি ঘটনা যা সিচ্যুয়েশন সৃষ্টি হওয়ার এক মুহূর্তের মধ্যে সংঘটিত হয়। দুর্ঘটনায় কারো করার কিছুই থাকে না। আমরা যত বুদ্ধিই খাটাই না কেন দুর্ঘটনা সৃষ্টি হলে তা রোধ করা কারো পক্ষেই সম্ভব নয়। তবে উল্লেখিত বিষয় গুলো মেনে চললে অনেকাংশেই দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।