হোম মোটরসাইকেল টিপস মাইলেজ কি? মোটরসাইকেল মাইলেজ কমার কারণ ও বৃদ্ধির উপায়

মাইলেজ কি? মোটরসাইকেল মাইলেজ কমার কারণ ও বৃদ্ধির উপায়

0
2
মোটরসাইকেল মাইলেজ কমার কারণ ও বৃদ্ধির উপায়

মাইলেজ কি? মোটরসাইকেল মাইলেজ কমার কারণ ও বৃদ্ধির উপায়

আপনি যখন কোন  মোটরসাইকেল কিনতে যাচ্ছেন তখন মোটরসাইকেলটির  মাইলেজ নিয়ে ভাবা জরুরি। কেননা খারাপ মাইলেজের একটি বাইক আপনার ঘরে রাক্ষস হয়ে আসতে পারে। মাইলেজের উপর ডিপেন্ড করেই বাইক কেনার ডিসিশন নেওয়া অনেক গুরুত্বপুর্ন। একটি বাইকের মাইলেজ বেশী হলে বাইকটির রানিং খরচ অনেক কম হয়।আর এই মাইলেজ কম বা বেশি এর পিছনে বাইকের ইন্জিন হেলথ অনেকটাই  নির্ভর করে। এক একটি বাইকের মাইলেজ একেক রকম। তবু একটি বাইক কতটা মাইলেজ দেবে তা বেশ খানিকটা নির্ভর করে বাইকটির মালিক বাইকটির ঠিকমত যত্ন, সময় মত সার্ভিসিং ও টিউনিং করান কিনা তার উপর। মোটরসাইকেলের ইন্জিনের স্বাস্থ্য মাইলেজের সাথে সরাসরি সংযুক্ত। এখন লাখ টাকার প্রশ্ন হচ্ছে, কীভাবে মোটরসাইকেলের  মাইলেজ বাড়ানো যায়?

আজ আপনাদের সাথে মোটরসাইকেলের মাইলেজ বাড়ানোর কিছু টিপস শেয়ার করব।

মাইলেজ বৃদ্ধি কারার আগে আপনাকে জানতে হবে মাইলেজ কেন কমে সেই বিষয়টি। কেন মোটরসাইকেল প্রত্যাশিত মাইলেজ দিচ্ছেনা? আপনি মেকানিকের কাছে গিয়ে কার্বুরেটর থেকে তেল কমিয়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন। তেল কমিয়ে দেওয়ার আগে নিচের কয়েকটি বিষয় আগে ভালোভাবে পরিক্ষা করে নিতে পারেন।

১: মোটরসাইকেলের চাকা ঠিকমতো ঘুরছে কিনা পরিক্ষা করুন। অনেক সময় ব্রেক অতিরিক্ত টাইট থাকার কারনে চাকা জ্যাম হয়ে থাকে এবং কম ঘুরে। আবার চাকার বেয়ারিং ভেংগে গেলেও চাকা জ্যাম হয়ে কম ঘুরে। আর চাকা জ্যাম থাকলে একই গতিতে ইঞ্জিনে বেশি চাপ বহন করতে হবে। চেইন অতিরিক্ত টাইট থাকাও চাকা জ্যামের কারন। সেই সাথে চেইন নিয়মিত পরিস্কার না করা বা লুব্রিকেন্ট না দেয়া হলেও মাইলেজে কিছু কমতি দেখা যায়।

২: দূর্বল পিস্টন-রিংয়ের কারণেও অনেক সময় মাইলেজ কমে যায়। এ সমস্যা থাকলে ইঞ্জিন অয়েল পিস্টন চেম্বারে এ চলে আসে আর পেট্রলের দাহ্যগুন কমিয়ে দেয়। ফলে ইঞ্জেনের শক্তি কমে যায় তাই মাইলেজও কম হয়।

৩: ভালভ ক্লিয়ারেন্স শক্তি ও মাইলেজ কমিয়ে দেয়ার আরেকটি বড় কারন । এটি টেপিট মিলানো নামে পরিচিত। অতিরিক্ত টাইট ভালভ ইঞ্জিনের শব্দ কমিয়ে দেয় ঠিকই, কিন্তু টাইমিং চেইনের উপর এর প্রভাব পড়ে। এতে করে ইঞ্জিনের মধ্যকার ফ্রিকশন বেড়ে যায়। সহজভাবে বললে ইঞ্জিন সহজভাবে ঘুরতে বাধা পায়। ভালব ক্লিয়ারেন্স যতটা নিখুঁত হবে, মোটরসাইকের পারফর্মেন্স এবং মাইলেজ ততটা বৃদ্ধি পাবে।

৪: কার্বুরেটর এবং এর সেটিং স্ক্রু গুলি অত্যন্ত নমনীয় হয়ে থাকে। অনভিজ্ঞ মেকানিক দ্বারা কখনও কার্বুরেটর টিউন করাবেন না। এতে বাইকের মাইলেজ কমে যায়।

৫: কোম্পানি নির্ধারিত গ্রেডের ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার না করাও মাইলেজ কমে যাওয়ার একটি কারন। এছাড়াও নির্ধারিত মাপের চাকা ব্যবহার না করলে মাইলেজ কমে আসে।

নতুন বাইক কেনার পরে বেশ কিছুদিন অপেক্ষাকৃত কম মাইলেজ পাওয়া যায় এটা স্বাভাবিক ব্যপার। বাইকটি কেনার পর ১০০০ -১৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত চালানোর পরে যতক্ষণ না দু’তিনবার সার্ভিস করানো হয়, ততক্ষণ সচরাচর মাইলেজ বাড়ে না।

এবার চলুন জেনে নেওয়া যাক মোটরসাইকেলের মাইলেজ বৃদ্ধির কয়েকটি টিপস।

১) কার্বুরেটর নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। কার্বুরেটরে ধুলোবালি জমে জেট এবং ফ্লোট বোল নিডল জ্যাম হয়ে যায়। এর ফলে জ্বালানি বেশি খরচ বেশি হয়। যার ফলে মাইলেজ কমে যায়। তাই সব সময়  কার্বুরেটর পরিষ্কার রাখতে হবে।

২)  ভালভ পরিষ্কার রাখাটা জরুরি। কারণ এয়ার ফিল্টার বুজে গেলে ইঞ্জিন তুলনামূলকভাবে বেশি জ্বালানি খরচ করে।

৩) বাইকের ম্যানুয়ালে যে গিয়ার চেঞ্জ গতি নির্দিষ্ট করা আছে, সেই গতিই বজায় রাখলে ঠিকঠাক মাইলেজ পাওয়া যায়।

৪) বাইকটি স্টার্ট দেওয়ার পরে প্রথম ৪০০ মিটার যতটা সম্ভব আস্তে যাবেন। প্রথমেই গতি তুললে জ্বালানি বেশি পুড়ে।

৫) ক্লাচ এবং ব্রেক যতটা কম ব্যবহার করবেন ততই ভাল। এর ফলে অনেকটা জ্বালানি সাশ্রয় হয়।

৬) সম্ভব হলে ট্রাফিক সিগন্যালের সময় আাপনার বাইকের ইন্জিন বন্ধ রাখুন ।

৭) কোম্পানি নির্ধারিত গ্রেডের ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করুন । সময়মত  ইঞ্জিন অয়েল  চেঞ্জ করুন ।

৮) আপনার বাইকের টিউবের প্রেশার নির্ধারিত মানের রাখুন তাই কিছুদিন পরপর টিউবের প্রেশার করান ।

উপরোক্ত বিষয় গুলো অনুসরন করলে অবশ্যই আপনার মোটরসাইকেলের মাইলেজ বৃদ্ধি পাবে। সময় নিয়ে পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আমাদের টিপস কেমন লাগছে তা কিন্তু কমেন্টে জানাতে ভুলবেননা।

আরো প্রাসঙ্গিক প্রবন্ধ লোড করুন
আরো লোড করুন মোটরসাইকেলবিডি
আরো লোড করুন মোটরসাইকেল টিপস

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।