হোম মোটরসাইকেল টিপস মোটরসাইকেল এর মালিকানা পরিবর্তনের পদ্ধতি

মোটরসাইকেল এর মালিকানা পরিবর্তনের পদ্ধতি

1
1
মোটরসাইকেল এর মালিকানা পরিবর্তনের পদ্ধতি

মোটরসাইকেল এর মালিকানা পরিবর্তনের পদ্ধতি

মোটরসাইকেল বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় বাহন। রাস্তায় বের হলে আজ কাল প্রচুর বাইক চোখে পরে। দেশে নতুন নতুন ব্র্যান্ড আসছে, প্রতিদিন নিত্য নতুন মডেলের বাইক উদ্বোধন হচ্ছে, বাইকের নতুন নতুন ফিচার যোগ হচ্ছে। বাংলাদেশে যেমন প্রতিদিন অসংখ্য নতুন মোটরসাইকেল বিক্রি হচ্ছে সেই সাথে পাল্লাদিয়ে প্রচুর ব্যবহৃত মোটরসাইকেলও বিক্রি হচ্ছে। ব্যবহৃত মোটরসাইকেল কেনার আগে আপনাকে যেই বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে তা হল মোটরসাইকেলের মালিকানা পরিবর্তন। অনেকেই মালিকানা পরিবর্তনের বিষয়টি এড়িয়ে চলতে চায় এটি আসলে একটি বড় ভুল এবং অবৈধ কাজও বটে। নিজের নামে মোটরসাইকেল থাকার বিষয়টা আজকাল খুবই গুরুত্বপূর্ণ । আপনার শখের বাইকটি কোন ভাবে চুরি বা খোয়া গেলে মালিকানা পরিবর্তনের কাগজ না থাকলে আপনার মোটরসাইকেলটি খোজে না পাওয়ার সম্ভাবনা শূন্যের কাছে।

তাই সবার উচিৎ ব্যবহৃত মোটরসাইকেল কিনলে অবশ্যই এর মালিকানা পরিবর্তন করে নেওয়া। আমাদের দেশে প্রচুর দুর্নীতি আর দালালদের উৎপাতের কারনে এইসব কাজ করতে প্রচুর বেগ পেতে হয়। তবে আপনার যদি আগে থেকে এই বিষয়ে কিছু  ধারনা থাকে তাহলে এটি অতি সাধারণ এবং সহজ একটি কাজ। আমি আমাদের মোটরসাইকেলবিডি এর সকল পাঠক গনের সুবিধার্থে কিভাবে মোটরসাইকেলের মালিকানা পরিবর্তন করা  এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করলাম । চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক:

প্রয়োজনীয় যেসকল কাগজ পত্র লাগবে সেগুলো হল

১) (টি ও) ফরম।

২) (টি টি ও) ফরম।

৩) জমাদানের ব্যাংক রশিদ

৪) বর্তমান মালিকের স্বাক্ষর ও ৩ কপি ষ্ট্যাম্প সাইজের ছবি।

৫) ব্লু বুকের ওরিজিনাল কপি ।

৬) বিক্রেতার জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি।

৭) ক্রেতার জাতীয় পরিচয় পত্র পত্রের ফটোকপি।

৮) ৩০০ টাকার একটি ষ্ট্যাম্পে ক্রেতা ও বিক্রেতার হলফ নামা এবং চুক্তিনামা এবং ক্রেতা বিক্রেতার ছবি উল্লেখ থাকতে হবে।

বি:দ্র: মোটরসাইকেলের মালিকানা পরিবর্তনের সময় ক্রেতা – বিক্রেতা উভয়কেই উপস্থিত থাকতে হবে। পরিবর্তন প্রক্রিয়া শুরু করার পূর্বে ক্রেতা ও বিক্রেতা কে কিছু করনীয় সম্পন্ন করতে হবে।

মোটরসাইকেলের মালিকানা পরিবর্তনের জন্য ক্রেতাকে যা করতে হবে

১) প্রথমে ক্রেতাকে (টি ও) ফরম ও (টি টি ও) ফরম সংগ্রহ এবং স্বাক্ষর দিতে হবে।

২) ব্যাংকে টাকা জমাদিয়ে মূল রসিদ দাখিল করতে হবে।

৩) ক্রেতাকে অবশ্যই তার জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি, (টি আই এন)সার্টিফিকেট,  বর্তমান ঠিকানা সহ বাসার বিদ্যুৎ বিল/ টেলিফোন বিলের ফটোকপি সত্যায়িত করে দাখিল করতে হবে।

৪) এর সাথে আরও কিছু কাগজ পত্র যেমন, ওরিজিনাল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট (ব্লু বুক), ট্যাক্স টোকেন, ফিটনেস সার্টিফিকেট, রোড পারমিট এর সত্যায়িত ফটোকপি প্রদান করতে হবে।

৫) এরপর নির্ধারিত নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে হলফনামা দাখিল করতে হবে।

৬) ক্রেতা কোন প্রতিষ্ঠান হলে সেক্ষেত্রে হলফনামার পরিবর্তে অফিসিয়াল পেপার প্যাডে চিঠি প্রদান করতে হবে।

৭) (বি আর টি এ) কর্তৃক পরিদর্শন ফরম কোন অভিযোগ ছাড়া ক্রেতার নিকট থাকতে হবে।

৮) বিক্রেতাকে অবশ্যই মালিকানা পরিবর্তনের সময় উপস্থিত রাখতে হবে।

মোটরসাইকেলের মালিকানা পরিবর্তনের জন্য বিক্রেতাকে যা করতে হবে

১) রাজস্ব ষ্ট্যাম্প ও স্বাক্ষীর স্বাক্ষর সহ বিক্রেতাকে (টি টি ও) ফরমে ও বিক্রয় রশিদ সংগ্রহ এবং স্বাক্ষর প্রদান করতে হবে।

২) সরকার নির্ধারিত নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে হলফনামা দাখিল করতে হবে। বিক্রেতা যদি কোম্পানি হয় সেক্ষেত্রে কোম্পনির  প্যাডে ইন্টিমেশন, অথোরাইজেশন ও বোর্ড রেজুলেশন প্রদান করতে হবে।

৩) মালিকানা পরিবর্তনের মোটরসাইকেলটি যদি কোন কোম্পানি বা অন্য কোন প্রতিষ্ঠান এর দায়বদ্ধ থাকে, সেক্ষেত্রে দায়বদ্ধ প্রতিষ্ঠানের ঋণ পরিশোধ সংক্রান্ত ছাড়পত্র, ব্যাংক কর্তৃক সহকারী পরিচালক(ইঞ্জিঃ) (বি আর টি এ) বরাবর সরকার নির্ধারিত নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে হলফনামা ও লোন এডজাস্টমেন্ট স্টেটমেন্ট প্রদান করতে হবে।

৪) জাতীয় পরিচয় পত্রের সত্যায়িত ফটোকপি সঙ্গে নিয়ে আনতে হবে।

৫) ক্রেতাকে স্বশরীরে উপস্থিত থাকতে হবে এবং নজর রাখতে হবে যাতে করে বিক্রেতা তার স্বাক্ষর কোন ভাবে গড়মিল করতে না পারে।

মোটরসাইকেলের মালিকানা পরিবর্তনের খরচ

  • মালিকানা পরিবর্তন ফি: ৩৫০০ টাকা
  • ষ্ট্যাম্প: ৮০০ টাকা
  • দলিল লিখা: ৩০০ টাকা
  • এফিডেভিট বা হলফনামা ফি বাবদ ১৫০০ টাকা

অর্থাৎ সর্বমোট ৬১০০ টাকা

উপরে উল্লেখিত ফর্মগুলো বিআরটিএ-এর ওয়েবপেজ http://www.brta.gov.bd থেকেই ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে নেওয়া যাবে। অথবা বিআরটিএ অফিসের গেটেই বিভিন্ন ফটোকপি দোকান থেকে সংগ্রহ করা যাবে।

উপরোক্ত সকল কাজ সম্পন্ন হলে আপনার নাম পরিচয় যাচাই করে, নাম পরিবর্তন ডাটাবেজে ইনপুট করার জন আপনার বায়োমেট্রিক্স (আঙ্গুলের ছাপ, স্বাক্ষর, ছবি তোলা) গ্রহণ করার করা হবে । এরপর আপনাকে সাময়িক রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটে সম্ভাব্য একটি তারিখের সিল দিয়ে দিবে। ঐ তারিখের মধ্যে আপনি আপনার মোবাইলে এসএমএস পাবেন এবং নতুন রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটটি তুলতে পারবেন।

একটি মন্তব্য

  1. তুহিন

    জুলাই 22, 2018 at 5:12 অপরাহ্ন

    এটা একটা জটিল বিষয়।

    প্রত্যুত্তর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।