হোম মোটরসাইকেল টিপস মোটরসাইকেল ড্রাইভিং লাইসেন্স করার পদ্ধতি

মোটরসাইকেল ড্রাইভিং লাইসেন্স করার পদ্ধতি

0
3
মোটরসাইকেল ড্রাইভিং লাইসেন্স করার পদ্ধতি

মোটরসাইকেল ড্রাইভিং লাইসেন্স করার পদ্ধতি

আপনি জানেন কি বাংলাদেশে ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া পেশাদার বা অপেশাদার চালক গাড়ি চালালে কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রয়েছে? ‘সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৭’ অনুসারে, ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালালে ৬ মাসের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দন্ডিত হবেন।

আমরা প্রত্যেকেই সুনাগরিক হতে চাই আর একজন সুনুগরিক হিসাবে আমাদের কর্তব্য হচ্ছে রাস্ট্রের সকল আইনের প্রতি শ্রদ্ধা পোষন করা। যারা মোটরসাইকেল ড্রাইভিং করে তাদের জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকাটা অনেক জরূরী।

আমি আজ আপনাদের সামনে ধাপে ধাপে তুলে ধরব, কিভাবে মোটরসাইকেল ড্রাইভিং লাইসেন্স করবেন? মোটরসাইকেল ড্রাইভিং লাইসেন্স কত প্রকার? মোটরসাইকেল ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে খরচ কত লাগবে? ইত্যাদি। আমাদের দেশের সরকারি কাজকারবার একটু ধীরগতির হলেও আগে থেকে একটু ধারনা রাখলে যেকোন কাজ করা সহজ হয়।

তাহলে চলুন দেখে নেওয়া যাক, সহজেই ড্রাইভিং লাইসেন্স করার উপায় – খরচ এবং ধাপসমূহ:

লাইসেন্স  কারার আগে জানতে হবে লাইসেন্স  কত ধরনের হয় বা কত প্রকার। লাইসেন্স এর ধরন অনুযায়ী লাইসেন্স সাধারনত ৫ প্রকারের হয়ে থাকে। যেমন-

  • শিক্ষানবীশ লাইসেন্স
  • পেশাদার লাইসেন্স
  • অপেশাদার লাইসেন্স
  • পি.এস. ভি লাইসেন্স
  • ইনস্ট্রাকটর লাইসেন্স

লাইসেন্স ৫ প্রকারের হলেও তিন ধরনের লাইসেন্স বেশি প্রচলিত যেগুলো:

  • শিক্ষানবীশ লাইসেন্স
  • পেশাদার লাইসেন্স
  • অপেশাদার লাইসেন্স

কিভাবে শিক্ষানবীশ ড্রাইভিং লাইসেন্স করবেন?

আপনি যদি শিক্ষানবীশ ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে চান  তাহলে নিম্নলিখিতভাবে ধাপ সমুহ অনুসরন করতে হবে :

১.আবেদন ফরম: বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বি.আর.টি.এ) কর্তৃক ছাপানো নির্ধারিত আবেদন ফরমের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।

২. ফিটনেস সার্টিফিকেট: একজন রেজিস্ট্রার্ড ডাক্তার কর্তৃক ফিটনেস সার্টিফিকেট নিতে হবে এবং রক্তের গ্রুপ ফরমে উল্লেখ করতে হবে।

৩.আবেদন ফি জমাদান: নির্ধারিত আবেদন ফি  স্হানীয় পোস্ট অফিসে জমা দিতে হবে।

৪. ছবি: সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের তিনকপি ছবি আবেদন ফরমের সাথে বি আর টি এ অফিসে জমা দিতে হবে।

আপনার আবেদনের পেক্ষিতে বি.আর.টি.এ’র লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ আবেদন পত্রের যথার্থতা বিবেচনা করে ৩ (তিন) মাসের জন্য শিক্ষানবীশ ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান করবেন। তারপর আপনাকে একটি তারিখ জানিয়ে দেওয়া হবে যেই তারিখে আপনার পরিক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

একটু চোখ বুলিয়ে নিন, শিক্ষানবীশ লাইসেন্স পেতে যেসকল কাগজ লাগবে:

১. নির্ধারিত ফরমে আবেদন

২. রেজিস্টার্ড চিকিৎসক কর্তৃক মেডিকেল সার্টিফিকেট

৩. ন্যাশনাল আইডি কার্ডের সত্যায়িত ফটোকপি

৪. নির্ধারিত ফি জমাদানের রশিদ

৫. সদ্য তোলা ৩ কপি স্ট্যাম্প ও ১ কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি।

লাইসেন্স করতে কত খরচ হয়:

  • মোটরসাইকেলের জন্য ৩৪৫ টাকা(১৫% ভ্যাটসহ)।
  • লার্নার নবায়ন ফি ৮৭ টাকা (১৫% ভ্যাটসহ)।
  • শিক্ষানবিস থেকে পূর্ণমেয়াদের লাইসেন্স পাওয়ার জন্য নির্ধারিত পরীক্ষা ফি।
  • অপেশাদার লাইসেন্স ফি : ২,৩০০ টাকা (১৫% ভ্যাটসহ)।
  • পেশাদার লাইসেন্স ফি : ১,৪৩৮ টাকা (১৫% ভ্যাটসহ)।

ড্রাইভিং লাইসেন্স করার আগে যেসকল বিষয় জানতে হবে:

কারা লাইসেন্স প্রাপ্তির ক্ষেত্রে অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন

  • ১৮ বছরের কম বয়সিরা (সর্বনিম্ন ১৮ বছর বয়স্করা অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রাপ্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন)
  • ২০ বছরের নিচের কেউ পেশাদার লাইসেন্সএর যোগ্য হবে না
  • মৃগী রোগী
  • ক্ষিপ্রতা গ্রস্ত ব্যক্তি
  • বধির ব্যক্তি
  • বর্ণান্ধ
  • রাতকানা রোগগ্রস্ত
  • হৃতরোগী

সর্বোপরি যে সকল ব্যক্তির শারিরীক অক্ষমতা, শারিরীক স্বল্পতা বা গাড়ী চালাতে ত্রুটি হবে এরকম ব্যক্তি লাইসেন্স প্রাপ্তিতে অযোগ্য বলে বিবেচিত হয়।

ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে  পরীক্ষা:

একজন চালককে ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে যে সমস্ত পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে হয় এবং  ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে  পরীক্ষার সকল নিয়ম এখানে বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করা হল :

ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে হলে লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের দেয়া শিক্ষানবীশ ড্রাইভিং লাইসেন্সের মেয়াদ কালের মধ্যে ধার্যকৃত ফিস জমা দিয়ে নির্ধারিত ফরমে আবেদন করার পর লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ প্রদত্ত নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী লিখিত, মৌখিক ও ব্যবহারিক মোট তিনটি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে হবে।

লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরে মোটরসাইকেল নিয়ে বি.আর.টি.এ অফিসের নির্ধারিত স্হানে বা জেলা পর্যায়ে কোন নির্ধারিত কোন স্থানে একজন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট/১ম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে হবে।

ড্রাইভিং লাইসেন্স এর লিখিত পরীক্ষা পদ্ধতি:

 ১. রোড সাইন, ট্রাফিক সিগন্যাল ও ট্রাফিক চিহ্ন, ২.  ট্রাফিক  নিয়মাবলী  ৩. মোটরযান ও ইহার ইঞ্জিন সংক্রান্ত প্রাথমিক জ্ঞান বিষয়, এই তিনটি বিষয়ের উপরে লিখিত পরীক্ষা দিতে হয়। এই তিন বিষয়ের উপর ছোট ছোট প্রশ্ন থাকে। যাতে স্বল্প কথায় উত্তর দেওয়া যায়। উত্তর দেওয়ার জন্য প্রত্যেক প্রশ্নের নিচেই ফাঁকা জায়গা থাকে এবং সেখানেই উত্তর লিখতে হয় অথবা প্রশ্ন পত্রে কয়েকটি উত্তর দেওয়া থাকে সঠিক উত্তরের পাশ্বে টিক দিতে হয়।

সাধারণত লিখিত পরীক্ষা ২৫-৩০ মিনিটের হয় এবং কমপক্ষে ৬৬% নম্বর পেলে উত্তীর্ণ হওয়া যায়।

ড্রাইভিং লাইসেন্স এর মৌখিক পরীক্ষা পদ্ধতি:

রোড সাইন, ট্রাফিক নিয়মাবলী, ট্রাফিক সিগন্যাল ও ট্রাফিক চিহ্ন, বাস্তবে চিহ্নিত করতে পারে কিনা এবং মটরযান ও ইহার ইঞ্জিন সংক্রান্ত প্রাথমিক জ্ঞান আছে কিনা এবং বয়স ও শারীরিক দিক হতে উপযুক্ত কিনা ইত্যাদি বিষয়ে মৌখিক পরীক্ষায় প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হয়।

ড্রাইভিং লাইসেন্স এর ব্যবহারিক পরীক্ষা পদ্ধতি:

ব্যবহারিক পরীক্ষা তিন ধাপে সম্পন্ন হয়ে থাকে। যথাঃ

ক. জিগ জ্যাগ টেস্ট

খ. র্যাম্প টেস্ট

গ. রোড টেস্ট

পরিক্ষার্থীকে লাইসেনিং কর্তৃপক্ষ ইঞ্জিন চালু করা, গিয়ার পরিবর্তন করা, গাড়ী থামানো, সিগন্যাল লাইট ব্যবহার করা, সামনে অগ্রসর হওয়া ও পিছনের দিতে সুষ্ঠুভাবে চালাতে পারে কিনা তা পরীক্ষা করবে। মাঠ পর্যায়ে পরীক্ষা ১ম ধাপ হচ্ছে জিগজাগ টেস্ট। একটি মাঠে কিছু আঁকা বাকা মার্কিং করা রাস্তা থাকে তার ভিতর দিয়ে গাড়ী নিয়ে অগ্রসর হওয়ার নাম জিগজাগ টেস্ট।

এসব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া সাপেক্ষে লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ আপনাকে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানে বিবেচনা করবেন।

ড্রাইভিং লাইসেন্স হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হলে কিংবা ছিড়ে গেলে কিভাবে পুনরায় ইস্যু করবেন:

ড্রাইভিং লাইসেন্স হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হলে কিংবা ছিড়ে গেলে লাইসেন্সধারীকে নির্ধারিত ফরমে সাদা কাগজে প্রয়োজনীয় ফিস পোস্ট অফিসের মাধ্যমে জমা লাইসেন্স পূর্ণ বিবরণাদি উল্লেখপূর্বক যে লাইসেন্সিং অথরিটি কর্তৃক ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু করা হয়েছিল তার বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে লাইসেন্সিং অথরিটির নিকট তিন কপি পাসপোর্ট সাইজের সত্যায়িত ছবিসহ আবেদন দাখিল পত্র করতে হবে।

এছাড়া কোন দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিতে হবে। সেই বিজ্ঞপ্তির তারিখ আবেদন পত্রে উল্লেখ করে উক্ত পত্রিকার নির্দিষ্ট স্হানটি কার্টিং করে আবেদন পত্রের সাথে সংযুক্ত করতে হবে। আবেদন পত্র সঠিক বিবেচিত হলে লাইসেন্সধারীর জন্য আবার একটি প্রতিলিপি ইস্যু করা হবে।

প্রয়োজনীয় ডাউনলোড লিঙ্ক সমূহঃ

ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষার নমুনা প্রশ্ন ডাউনলোড
ড্রাইভিং লাইসেন্স লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার প্রশ্ন ও উত্তর ডাউনলোড
ড্রাইভিং লাইসেন্স MCQ পরীক্ষার প্রশ্ন ও উত্তর ডাউনলোড
ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষার ট্রাফিক সংক্রান্ত রোড সাইন ও রোড মার্কিং ডাউনলোড
আরো প্রাসঙ্গিক প্রবন্ধ লোড করুন
আরো লোড করুন মোটরসাইকেলবিডি
আরো লোড করুন মোটরসাইকেল টিপস

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।