হোম মোটরসাইকেল রিভিউ টেকনিক্যাল রিভিউ বিটল বোল্ট স্টিংগার (Beetle Bolt Stinger) টেকনিকাল রিভিউ

বিটল বোল্ট স্টিংগার (Beetle Bolt Stinger) টেকনিকাল রিভিউ

0
0
Beetle Bolt Stinger

বিটল বোল্ট স্টিংগার (Beetle Bolt Stinger) টেকনিকাল রিভিউ

বিটল বোল্ট মোটরসাইকেল কোম্পানি প্রতিনিয়ত তাদের মোটরসাইকেলের মান উন্নত করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আর যার কারণে তারা প্রতিনিয়ত তাদের বিভিন্ন ধরণের মোটরসাইকেল বাজারে নিয়ে এসে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষনের চেষ্টা করে যাচ্ছে। আর এই প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকতে হলে ভাল মানের কিছু মোটরসাইকেল তৈরি করা অতিব জরুরি আর তাই বিটল বোল্ট মোটরসাইকেল কোম্পানি তাদের মোটরসাইকেলগুলোতে ভাল মানের কিছু টেকনিকাল উপকরন ব্যবহার করছে যাতে বাইকাররা বাইকগুলো চালানোর সময় কোন অসুবিধায় না পড়েন। আর তেমনি একটি মোটামুটি হাই কুয়ালিটির স্পোর্টস বাইক হচ্ছে বিটল বোল্ট স্টিংগার (Beetle Bolt Stinger)। এই মোটরসাইকেলটিতে বেশ কিছু ভাল মানের টেকনিকাল উপকরণ রয়েছে যা একটি স্পোর্টস বাইকের জন্য বেশ ভাল এবং কার্যকর।

ডিজাইনঃ

বেশ নজরকাড়া স্টাইলিশ ডিজাইন নিয়ে হাজির হয়েছে এই বিটল বোল্ট স্টিংগার যেখানে এই মোটরসাইকেলটি বেশ উঁচু ভাবে তৈরি করা হয়েছে এবং এর বডিতে ছোট ছোট প্লাস্টিক সেপের কাজ গুলো সহজেই মানুষের নজরে পড়বে। আর ডিজাইনের কথা বলতে গেলে এর বড় সাইজের ফুয়েল ট্যাংকের কথা বলতে হয় যেটি অসাধারণ স্টাইলিশ দেখতে এবং চমৎকারভাবে ডিজাইন করা হয়েছে বিশেষ করে এর সামনের অংশ চওড়া আকারে চমৎকারভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যা সবাইকে আকৃষ্ট করতে সক্ষম সহজেই। আর এই ফুয়েল ট্যাংকের বডিতে বেশ বড় অক্ষরে Stinger লিখা রয়েছে যা বেশ আকর্ষনিয়।

কন্ট্রোলঃ

বিটল বোল্ট স্টিংগার মোটরসাইকেলের কন্ট্রোলিং এবং হ্যান্ডেলিং সিস্টেম বেশ ভাল যেখানে এই বাইকটি চালানোর সময় বাইকারদের কোন রকম অসুবিধায় পড়তে হবেনা আশা করি। বাইকটি আপনি যতো স্পীডেই চালাননা কেন এর শক্তিশালী মজবুত ধরণের দুটি ডিস্ক ব্রেক আপনাকে সহজেই এই বাইকটি কন্ট্রোল করতে সাহায্য করবে।

ইঞ্জিনঃ

৪টি স্ট্রোক সহ এই মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনে আপনি আরো পাবেন ইঞ্জিনকে ঠান্ডা রাখার জন্য একটি এয়ার কোল্ড কুলিং সিস্টেম, আর এদের সাথে রয়েছে একটি সিঙ্গেল সিলিন্ডার আর এগুলো বেশ কার্যকর এ ধরণের স্পোর্টস বাইকের ইঞ্জিনের জন্য। আর এই বাইকের ১৪৯.৫ সিসি মানের ইঞ্জিন সত্যিই বেশ ভাল যা বাইকারকে বাইকটি চালানোর সময় একটি স্পোর্টস বাইকের অনুভূতি দেয়ার জন্য যথেষ্ঠ। আর আপনার এই বাইকের স্পীডকে আরো বাড়িয়ে তুলতে এর সর্বচ্চ স্পীড পাওয়ার রয়েছে ১৩.৫ পিএস এবং ৮০০০ আরপিএম যা সত্যিই অসাধারণ এবং এর সর্বচ্চ তোরকিউ হচ্ছে ১১.৫ এনএম এবং ৬০০০ আরপিএম। আর এই ইঞ্জিনের সিডি আই ধরণের ইগনিশন সিস্টেম সত্যিই প্রশংসনীয় যা এই ইঞ্জিনের শক্তি আরো বৃদ্ধি করেছে।

<<=অন্যান্য ফিচার=>>

সাস্পেনশন এবং ব্রেকঃ

বিটল বোল্ট স্টিংগার মোটরসাইকেলের অসাধারণ শক্তিশালী দুটি সাস্পেনশন সিস্টেম বাইকারদের বেশ উপকৃত করবে আর এ ধরণের সাস্পেনশন সিস্টেম একটি ভাল মানের স্পোর্টস বাইকের জন্য সত্যিই খুব জরুরি, এই বাইকের সামনের অংশে আপনি পাবেন একটি টেলিস্কপিক সাস্পেনশন যেটি এখন আমরা বেশিরভাগ স্পোর্টস বাইকেই দেখে থাকি কিন্তু এর পেছনের অংশের মনো সাস্পেনশন সত্যিই অসাধারণ একটি সাস্পেনশন যা বাইকটির জন্য বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখবে। আর এই বাইকটির কন্ট্রোলিং সিস্টেমে আপনি পাবেন দুটি শক্তিশালী ডিস্ক ধরণের ব্রেক খুব কম বাইকেই একসাথে দুটি ডিস্ক ব্রেক দেখা যায় যা এই বাইকটিতে দেখতে পাবেন।

হেডল্যাম্পঃ

এই বাইকের সামনের অংশে আপনি চমৎকার ডিজাইনের একটি হেডল্যাম্প দেখতে পাবেন যেটি শুধু দেখতেই সুন্দর নয় এতে রয়েছে ১২ ভোল্ট সম্পূর্ণ ৩৫/৩৫ ওয়াটের একটি হেডল্যাম্প যার সাথে রয়েছে একটি টেইল ল্যাম্প এবং একটি ক্লিয়ার লেন্স ধরণের টার্ন ল্যাম্প যা অন্ধকারে বাইকারদের জন্য বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

স্পিড এবং মাইলিয়েজঃ

অন্যান্য স্পোর্টস বাইকের সাথে পাল্লা দেয়ার মতো যথেষ্ট স্পিড রয়েছে এই বিটল বোল্ট স্টিংগার বাইকটিতে যেখানে এই বাইকটি প্রতি ঘন্টায় সর্বচ্চ ১২০ কিলোমিটার গতি বেগে যাওয়ার দাবি করে যা একটি স্পোর্টস রেসিং বাইকের মতোই স্পিড। আর অন্যদিকে এই বাইকটির মাইলিয়েজের দিকে খুব একটা বেশি মাইলিয়েজ সম্পূর্ণ না হলেও এটি প্রতি লিটারে ৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত যেতে সক্ষম যা একটি ভাল মানের বাইকের জন্য মোটামুটি মানের মাইলিয়েজ বলা যায়।

চেইনঃ

এই বাইকের অন্যতম একটি অংশ হচ্ছে এই বাইকের ইঞ্জিনের সাথে একটি চেইন লাগানো রয়েছে যা ইঞ্জিন এবং পেছনের চাকার সাথে সংযুক্ত রয়েছে। সচারাচর এ ধরণের চেইন স্পোর্টসবাইকগুলোতে দেখা যায়না। আর এই চেইনটি বাইকের ইঞ্জিনকে আরো ভালভাবে চালিত করার জন্য লাগানো হলেও এটি অনেকের কাছেই এই চেইন অপছন্দের একটি কারণ হতে পারে।

ভাল দিকঃ

  • অসাধারণ স্টাইলিশ এবং ইউনিক ডিজাইন।

  • ভাল মানের ইঞ্জিন কুয়ালিটি।

  • একসাথে দুটি ডিস্ক ধরণের ব্রেকিং সিস্টেম।

খারাপ দিকঃ

  • তুলনামূলক কম মাইলিয়েজ।

  • বাইকটি চাইনিজ উৎপাদনকৃত বলে অনেকের অপছেন্দের কারণ হতে পারে।

  • ইঞ্জিনের সাথে লাগানো চেইন অনেকের দৃষ্টিতে খারাপ লাগার কারণ হতে পারে।

শেষ কথাঃ

বিটল বোল্ট স্টিংগার একটি নেকেট ধরণের স্পোর্টস ক্যাটাগরির বাইক। আর এই বাইকটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানার পর এটুকু বলা যায় যে বর্তমানে প্রতিযোগিতার বাজারে অন্যান্য স্পোর্টস বাইকের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য যথেষ্ঠ পরিমাণে উপকরণ রয়েছে এই মোটরসাইকেলটিতে যা দিয়ে এই বাইকটি অন্য স্পোর্টস বাইকের সাথে টক্কর দিতে পারবে। আর আশা করি বাইকাররা বাইকটি ব্যবহার করে দেখতে পারেন।

Full Specification of Beetle Bolt Stinger
আরো প্রাসঙ্গিক প্রবন্ধ লোড করুন
আরো লোড করুন মোটরসাইকেলবিডি
আরো লোড করুন টেকনিক্যাল রিভিউ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।